বাস্তবচিত্র

প্রিয়ঙ্কর দে

এ কেমন বিচিত্র পরিহাস!
আজ ধর্মের প্রদীপ জ্বলে না।
মন্দিরে আরতি দেখতে আসে না,
মসজিদের ইমাম বলছে বাড়িতে নমাজ পড়ো
গির্জার ফাদার শুনলাম গ্রেফতার।

বামদিক হেঁটে গেছি কালীঘাট,
ডানদিকের সেন্ট পল গেছি বড়দিনে,
জীবনের শান্তি আছে বাবাকে স্নান করিয়ে,
পুরোহিত দুই হাতে ভরেছে ঝুলি ভরে
শালিগ্রামের অন্ন জোগাতে ।

কিছুদিন হলো আমি ঈশ্বর দর্শন করিনি,
কিন্তু চিন্তা কিসের?
আমার জয়েন্ট বসা বন্ধু,
সেই ত ঈশ্বর!
তাঁর ধাম হচ্ছে বাঙুর,
প্রণামী দুই টাকা,
যাবো আমি
আমার জ্বরের উপসম খুঁজতে।

শুনলাম রাস্তায় জনার্দন
বলো কি?
অন্ন চাই,থাকতে আশ্রয় চাই
আর দুবেলা যেন জোটে।
তবে বুঝি অন্নপূর্ণা
বাবাকে ভিক্ষে দিতে চাননি?

আমরা পাথর পুজো করি
কাঠকে মালা পরাই
এখন তো দেবতার জন্ম
ফ্রয়েড আর মার্কসের
মতবাদে
পূজারী গামছা গায়ে অথচ
মন্ত্র ভুলে বলছে ইনকিলাব।

অসুখ বিসুখ তবুও আছে
মহামারির আকার ধারণ করেছে
রক্ত মাংস শরীর গুলো এসে দাঁড়িয়ে
খেতে দে মা!বাবা!

বরাহের বিষ্ঠা খেতে হবে শেষে যে।

কত আর্থিক সহায়তা,
ত্রাণ সামগ্রী আসছে,
দাদা-দিদি কত দিচ্ছে
তবুও কেন এতো ভাতের জ্বালা?
ওরে তোর সরু পেটে গোরু ধরে না?

শিক্ষা আজ চেয়ার টেবিলে বসে শোন নয়,
গ্রন্থাগার আজ প্লে স্টোরে,
বিদ্যাসাগর! আর তোকে বুঝি
রাস্তার আলোয় পড়তে হবে না?

ভাত বেড়ে দাও,
ফাইলটা দাও,
তাড়াতাড়ি করো মেট্রো স্টেশনের ভিড় কি জানো?
স্ত্রী তো কাজের ঝি তাই না
সব করে দেবে?
আজ! বড়বাবুর হুকুম কার জন্য?
এখন তিনি পত্নী
মন মন্দিরের দেবী
তাঁর হাতে আমার নববর্ষের রান্না
বড়ো তৃপ্তি করে খেলাম।

আরেক চিত্র বলছে
ঘরমুখী শ্রমিকেরা আক্রান্ত
উর্দিতে এসে লাঠি মেরে বলছে
সরকারি হুকুম রাজপথ অবরোধ
করা যাবে না।
বাড়ি যাবো দারোগাবাবু?
ভাগাড়ে মর!

এই কবিতা লিখছি
কি ভাবনা নিয়ে?
যে আমার বিশ্বাস আর সংসারের খেলাঘর
যেন অপচয়ভুমি,
শিল্পী কলির এই বাস্তবচিত্র।

প্রিয়ঙ্কর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করছেন। কবিতা লেখা তার অন্যতম শখ।

আপনার প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, ইত্যাদি আমাদেরকে পাঠাতে ইমেইল করুন এই ঠিকানায় : letters@timesofcorona.com বা timesofcorona@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.