কমলা ঘর

অর্ঘ্যদীপ আচার্য্য

আমার মনের ভিতরে অনেকগুলো ঘর আছে। একটা ঘর কাজ করে, সারাদিন পাগলের মতো। অন্য একটা ঘর ভাবে, ভাবা প্রাকটিস করে। আর একটা কমলা রঙের ঘর, সেটা মন খারাপের ঘর। সকাল হলে মন খারাপের ঘরে ঢুকে আমি বসে থাকি। ভাবার ঘরে ঢুকে ভাবি। আর বাকি সারাদিন থাকি নীল রঙের কাজের ঘরে।

পাহাড়কে কাছ থেকে দেখে বুঝলাম, এত বিশালত্বের মধ্যেও তার বাড়িতেও আছে সেই কমলা রঙের ঘর। পাহাড়ের তো একা দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিচ্ছু কাজ নেই সারাটা দিন, তাই সে সারাদিন থাকতে পারে কমলা রঙের মন খারাপের ঘরে। আমার মতো হাজার মানুষ দূর থেকে মুগ্ধ হয় পাহাড়কে দেখে। কিন্তু কেউ বোধ হয় দেখতে পায় না, মন খারাপের সেই কমলা রঙের ঘরটাকে। পাহাড় কখনও একা চুপ করে বসে থাকে সেই ঘরে। একান্তে নিজের সঙ্গে চলে জীবন যাপন। বিশালত্বের মধ্যেও যে আজীবনের একাকীত্ব থাকে, এত কাছ থেকে পাহাড়কে না দেখলে শিখতাম না হয়তো কখনও।

পাহাড়ের মতোই কমলা রঙের ঘরে এখন বসে আছি আমি। নীল রঙের কাজের ঘরে থেকেও, মন পড়ে আছে সেই মনখারাপের ঘরটাতে। সাদা বরফের স্নিগ্ধ শূন্যতার একটা গন্ধ বেরোচ্ছে পাহাড়ের গা দিয়ে। সেই গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে আমার গায়ে, গালে, চোখে, ঠোঁটে। অসংখ্য দামি সুগন্ধীর আড়ালও ঢাকতে পারছে না কমলা রঙের ঘর থেকে বন্ধ দরজা চুঁইয়ে বাইরে এসে পড়া সেই মনখারাপের গন্ধটাকে। বার বার পিছন থেকে টেনে ধরছে সেই গন্ধ, কমলা ঘরের একলা থাকার আরাম। ঘর ছেড়ে যেতেই হবে চলে, কিন্তু যাওয়ার আগেও বার বার ফিরে তাকাতে হয়। অনেক পিছুটান যে কাটানো যায় না বহু চেষ্টার পরেও। তাড়া করতে থাকে আজীবন। এমনকি জীবনের ওপারেও ছাড়াতে পারি না সেই পিছুটান, কিছুতেই..

অর্ঘ্যদীপ হলেন বিশাল কাঁচের বহুতলের কর্পোরেট অফিস থেকে সন্ধ্যের দিকে তাকিয়ে থাকা নির্জন একজন মানুষ। যে নিজের কথা লিখতে গিয়ে লিখে ফেলেছে আরও সমস্ত নির্জন মানুষের কথা। সারাদিন হয়তো লেখার জগতের থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে থাকতে হয় পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই মানুষটির। সারা দিন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাঝেও কোথাও থেকে যায় কোনও উড়ো মেঘ, অলীক সুখ। একটা অনাদর থেকে ফিরে হাজার হাজার ভালোবাসার আলো নিয়ে ঘুরে বেড়ান অর্ঘ্যদীপ। এখানেই বোধ হয় তাঁর লেখাগুলো হয়ে গেছে সবার।

আপনার প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, ইত্যাদি আমাদেরকে পাঠাতে ইমেইল করুন এই ঠিকানায় : letters@timesofcorona.com বা timesofcorona@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.