বাঁধের ধারে জীবন শুয়ে…

অর্কোপল দত্ত

তখন সন্ধ্যে ৮ টা। রূপমারি নদীর উপর দিয়ে ভেসে চলেছি আমরা। মাথার উপরে তখন বিষন্ন ঈদের চাঁদ৷ পরশু রাতে ঘর হারিয়েছে যে মা, তাকে আজ ‘খিদে পেয়েছে’ বলে বিরক্ত করেনি ছোটছেলে। জল ঢুকেছে ঘরে, তবু এত তৃষ্ণার্ত কেন দেখাচ্ছে ওদের?

পোকামাকড়ের মতো চার বাই পাঁচের রাস্তায় শুয়ে আছে ওরা। ওদের ঘুম ভাটার সময়, জোয়ার এলেই উঠে পড়ে ধরপড়িয়ে৷ কিন্তু, কেন? সবই তো গেছে জলে, তুচ্ছ প্রাণ ছাড়া আর কী আছে বাকি? তবু, ওরা জেগে ওঠে৷ 

ভোর বেলায় কেন ডাকছে না ওরা? সম্বিত ফিরে পেলেই ওদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরশু রাতের চেহারা! জলে ভেসে যাওয়ার আগে মোরগগুলোর শেষ ডাক! কানে বাজে বড্ড। গোরুগুলোও ভেসে গেছে গতরাতে। আর কী ফিরে আসবে ওরা? তবুও, রহিম মিয়া অপেক্ষা করে একঘটি জল নিয়ে গরুগুলোর পা ধুইয়ে দেওয়ার৷ 

সারাদিন সারারাত কাঁদার পালা শেষ হলে, ওরা বলে ওঠে, ‘তবু বাঁচবো।’ আমাদের বলে, আমরা গত হপ্তায় দুকেজি চাল পেয়েছি। দুপুরে ভাত আর রাতে জল খেয়ে কেটে যাবে কিছুদিন। তোমরা বরং, ওই গ্রামে কিছু দিও। ওরা ভালো নেই।’

গাছের ডাল ধরে তিন ঘন্টা বেঁচে থাকার চেষ্টা করেও, বেঁচে থাকতে পারেনি যে মানুষটা, তার বাঁচার চেষ্টাটাকেই আঁকড়ে ধরে মাটি এনে, বস্তা এনে বাঁধ গড়তে বসে রূপমারী…

অর্কোপল দত্ত, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ। লিটিল ম্যাগাজিন থেকে অনলাইন ফোরামে নিয়মিত লেখালেখি করেন৷ লেখালেখি ছাড়াও আঁকা, ঘুরতে যাওয়া, রান্না করা ইত্যাদি বিষয়ে তার শখ।

আপনার প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, ইত্যাদি আমাদেরকে পাঠাতে ইমেইল করুন এই ঠিকানায় : timesofcorona@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *